নামগঞ্জ দিরাই উপজেলায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ - অন্ধকার গ্রামের দৃশ্য

টানা ২ দিন ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ: শুক্র-শনিবার ভয়ংকর ভোগান্তির আশঙ্কা

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দিরাই উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ চলবে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এবং শনিবার (২৫ এপ্রিল)। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগেই স্বাভাবিক করা হবে। তবে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পিডিবি।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল দিরাই উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে। বর্ষা মৌসুমে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর গরমের সময় চাহিদা বেড়ে যায়। এর আগেও একাধিকবার দিরাই ও আশপাশের এলাকায় এমন জরুরি মেরামতের ঘোষণা এসেছে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে এই ঘোষণা আরও বেশি প্রভাব ফেলছে। অনেক এলাকায় ইতিমধ্যে দৈনিক ১০-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।

এই বিদ্যুৎ বন্ধের প্রভাব কতটা গুরুতর?

  • সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা: ফ্রিজ, ফ্যান, টিভি, মোবাইল চার্জ—সবকিছু বন্ধ। গরমে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে উঠবে।
  • ব্যবসা-বাণিজ্য: দোকান, মিল, ছোটখাটো কারখানা বন্ধ থাকবে। মোবাইল রিচার্জ, কম্পিউটার দোকান, ফ্রিজার মালিকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।
  • হাওরের কৃষক ও মৎস্যচাষী: পানি সেচ, মাছের ঘেরে অক্সিজেন পাম্প বন্ধ থাকলে ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারে।
  • শিক্ষার্থীদের উপর: অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হবে।
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি: হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জেনারেটর না থাকলে রোগীদের সমস্যা হবে।

বাস্তব জীবনের গল্প: একজন দিরাইবাসীর কথা

রাজনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়া (নাম পরিবর্তিত) বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ যায়। এখন আবার টানা ৯ ঘণ্টা করে দুই দিন। ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাবে। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা বন্ধ। গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

এমন অসংখ্য পরিবার এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে—মোমবাতি, চার্জার লাইট, ইনভার্টার কিনতে দোকানে ভিড়।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা (সহজ ভাষায়)

৩৩ কেভি লাইন হলো উপজেলা পর্যায়ের প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো এলাকায় বিপর্যয় নেমে আসে। জরুরি মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—যেমন ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ বা দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকআউট।

পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংস্কারের ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন হবে। তবে স্বল্পমেয়াদে গ্রাহকদের কষ্ট স্বীকার করতেই হবে।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

  • যদি মেরামত কাজ সফল হয় → দিরাইয়ে বিদ্যুৎ স্থিতিশীলতা বাড়বে।
  • যদি বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়ে → আরও বেশি সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে।
  • দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট চলমান থাকায় হাওর অঞ্চলে এ ধরনের ঘোষণা আরও আসতে পারে।

গ্রাহকদের পরামর্শ:

  • প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকে কিনে রাখুন
  • জেনারেটর/ইনভার্টার প্রস্তুত রাখুন
  • শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিন
  • পানি সংরক্ষণ করুন (পাম্প বন্ধ থাকবে)

FAQ (প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)

প্রশ্ন ১: দিরাইয়ে কোন তারিখে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে? উত্তর: ২৪ ও ২৫ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

প্রশ্ন ২: কাজ আগে শেষ হলে বিদ্যুৎ আগে আসবে? উত্তর: হ্যাঁ, কর্তৃপক্ষ বলেছে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ৩: দিরাইয়ের কোন কোন এলাকা প্রভাবিত হবে? উত্তর: পুরো দিরাই উপজেলার ৩৩ কেভি লাইনের আওতাধীন সব এলাকা।

প্রশ্ন ৪: অভিযোগ জানাব কোথায়? উত্তর: দিরাই উপজেলা পিডিবি অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন ৫: এই মেরামতের পর বিদ্যুৎ সমস্যা কমবে? উত্তর: আশা করা যায়, সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা হবে।

উপসংহার

দিরাইয়ের এই ১৮ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বন্ধ শুধু একটি নোটিশ নয়—এটি হাওরবাসীর প্রতিদিনের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। গরম, লোডশেডিং আর অনিশ্চয়তার মাঝে মানুষ এখনও আশা করে ভালো দিনের। কর্তৃপক্ষ যদি স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে, তাহলে এই অস্থায়ী কষ্ট ভবিষ্যতের স্থায়ী স্বস্তি এনে দিতে পারে।

দিরাইবাসী, সাবধানে থাকুন। প্রস্তুতি নিন। আর বিদ্যুৎ বিভাগ—আপনাদের কথা মনে রাখুন।

লেখক: একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক (বাংলাদেশ নিউজ ফোকাস)

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *