আমার জানাযায় তিন ভাইকে দাঁড়াতে দিও না... (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ)

আমার জানাযায় তিন ভাইকে দাঁড়াতে দিও না… (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ)

ছেলে কাগজটা পড়ে শেষ করতেই পুরো মসজিদ চত্বর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেউ কথা বলতে পারছিল না। রেহানার তিন ভাই দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের মুখ ফ্যাকাশে। তারা এগিয়ে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু রেহানার বড় ছেলে হাত তুলে বারণ করল।

সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমার মা ২১ বছর ধরে যে কষ্ট পেয়েছেন, আজ তিনি সেই কষ্টের প্রতিশোধ নিয়েছেন। তিনি মাফ করেননি। আর আমি তার শেষ ইচ্ছে পূরণ করব। আজ তার জানাযায় তার তিন ভাইকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।”

তিন ভাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের চোখে পানি। কিন্তু কেউ তাদের সান্ত্বনা দিল না।

জানাযা শেষ হলো। রেহানাকে কবরে নামানো হলো। তার ছেলে মাটি দিতে দিতে ফিসফিস করে বলল, “মা, তুমি যা চেয়েছিলে তাই হয়েছে। তুমি শান্তিতে ঘুমাও।”

রেহানা চলে গেছেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার আগে সমাজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ রেখে গেছেন —

শিক্ষা সম্পত্তির লোভে ভাই-বোনের সম্পর্ক নষ্ট করবেন না। যার যা প্রাপ্য, তাকে বুঝিয়ে দিন। একজন মানুষের মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়েও বড় যন্ত্রণা হয় যখন নিজের ভাইয়েরা তাকে বঞ্চিত করে। রেহানা মা যে কষ্ট নিয়ে চলে গেছেন, সেই কষ্ট কোনো টাকা দিয়ে মেটানো যায় না।

যারা আজও বোনের হক মেরে খাচ্ছেন, তাদের একবার ভাবুন — মৃত্যুর সময় যদি আপনার বোনও এমন কাগজ লিখে যায়, তাহলে আপনি কীভাবে মাথা উঁচু করে চলবেন?

ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করুন। ভাই-বোনের হক আদায় করুন। কারণ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো অধিকার হরণ করা।

রেহানা আজ শান্তিতে আছেন। কিন্তু তার তিন ভাইয়ের মনে হয়তো আজীবন এই কাগজের লেখাটা জ্বলবে।

End of Story


Disclaimer: এটা একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প। বাস্তবে এর সাথে কোনো ব্যক্তি, ঘটনা বা সত্যতার কোনো মিল নেই। এটি শুধুমাত্র Facebook-এ ভাইরাল করার জন্য বানানো হয়েছে। আমি এই পোস্টের জন্য কোনো দায়িত্ব নিচ্ছি না, কারণ এটি অন্যান্য Facebook পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত একটি কাল্পনিক লেখা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *